পথের ধারের সেই শিশুটিকে সুধিয়েছিলাম আমি—
“এই দেশ থেকে বলো তো, কী তাড়াতে চাও তুমি?”
সে তাকায়নি নীল আকাশের পানে, গায়নি মুক্তির গান,
রাজনীতি কিংবা দুর্নীতির বিষে ঝরেনি তাহার প্রাণ।
যুদ্ধের ভাষা বোঝেনি সে কভু, জানত না হাহাকার—
খুব সংক্ষেপে বলেছিল শুধু, “শীতটা হোক পার।”
মুহূর্তকাল স্তব্ধ বাতাস, থমকে গেল সব কথা,
আমার বুকের বাম অলিন্দে হালকা কাঁপন, ব্যথা।
আমি তখন মনে মনে এক দীর্ঘ তালিকা বুনি—
শীতের সকাল, কুয়াশা-বিলাস, বসন্ত দিন গুনি।
আমার কাছে শীত মানে ছিল রোদেলা দুপুরের ওম,
গরম কফি আর লেপের নিচে গভীর ঘুমের ঘ্রাণ।
আর ওর কাছে?
শীত মানে এক হাড়কাঁপানো বিভীষিকা,
ফুটপাতে শুয়ে কুঁকড়ে যাওয়া—বাঁচার শেষ শিখা।
ছেঁড়া কম্বলে আকাশ ঢাকা, বিনিদ্র নীল ভোর,
শীত আসে তারে দংশিতে আজ, নিষ্ঠুর কঠোর।
আমার কাছে যা আমেজ-উৎসব, পশমি চাদরের টান,
ওর কাছে তা টিকে থাকার এক দীর্ঘ লড়াইয়ের নাম।
সেদিন বুঝলাম—
ঋতুগুলো সব সাম্যের গান গায় না এ ধরণীতে,
কারো কাছে যা শ্রেষ্ঠ ঋতু, কেউ মরে সেই শীতে।
এখন যখনই বসন্ত খুঁজি কিংবা প্রিয় ঋতু,
বুকের ভেতর জেগে ওঠে— এক অলিখিত ভীতি, রুদ্ধশ্বাস প্রশ্নচিহ্ন।
আমি যাকে আজ ভালোবাসছি খুব, বিলোচ্ছি মায়ার রেশ,
কার জীবনে সেই ঋতুটা আনছে মরণ-বেশ?

