
হেমন্ত সংখ্যা: পাতাঝরার পদচিহ্নে-২০২৫
হেমন্ত এলেই প্রকৃতি যেন নতুন করে শেখায় “বদলের সৌন্দর্য”। পাতারা ঝরে পড়ে, কিন্তু সেই পতনই পরবর্তী নবজন্মের ইঙ্গিত। মাটির বুকে শুকনো পাতার মচমচে শব্দে আমরা শুনতে পাই সময়ের সঞ্চার, আর অনুভব করি যে প্রতিটি অবক্ষয়ই নতুন নির্মাণের পূর্বশর্ত।
আজকের বাংলাদেশেও যেন তেমনই এক হেমন্তের সময়। চারদিকে অস্থিরতা, মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, অচল বাজারব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের নানামুখী সংকট, তরুণদের অনিশ্চয়তা, আর সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের সংগ্রাম—সব মিলিয়ে দেশ যেন পাতাঝরার অন্তহীন দুপুরে দাঁড়িয়ে।
কিন্তু হেমন্ত আমাদের হতাশ করে না; সে শেখায় অন্ধকারের অন্তরেই আলো জন্মায়।
এই সময়ে সামনে এসেছে জাতীয় নির্বাচন—যা কেবল এক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং একটি জাতির ভবিষ্যত রূপরেখা ঠিক করার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। নির্বাচন হোক শান্তির, নিরাপত্তার, ন্যায়ের, এবং মানুষের আশা–স্বপ্নের প্রতিফলন। এই ভোটে নির্ধারিত হোক—আমরা কেমন বাংলাদেশ চাই? কেমন অর্থনীতি, কেমন শিক্ষা–স্বাস্থ্যব্যবস্থা, কেমন নাগরিক নিরাপত্তা, এবং কেমন মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে চাই?
নির্বাচনের মাধ্যমে যেন
— সততা প্রাধান্য পায়,
— প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর ফিরে পায় গুরুত্ব,
— তরুণরা ফিরে পায় স্বপ্নের আকাশ,
— আর সাধারণ মানুষ ফিরে পায় ন্যায্যতার নিশ্চয়তা।
কারণ প্রকৃত উন্নয়ন তখনই আসে, যখন ক্ষমতার মঞ্চে বসে থাকা মানুষগুলো দেশের প্রত্যেক নাগরিককে সমান মর্যাদায় দেখতে শেখে।
হেমন্ত বলে—ঝরা পাতা বৃক্ষকে মরে যেতে শেখায় না; বরং মুক্ত হতে শেখায়।
আমাদের দেশও আজ একই শিক্ষা চাইছে—দুর্নীতি, বৈষম্য, অসহিষ্ণুতা আর মিথ্যার বোঝা নামিয়ে রেখে একটি নতুন শুদ্ধতার পথে হাঁটার।
আমরা চাই—
যে পরিবর্তনের কথা বলা হয়, তা যেন স্লোগানে আটকে না থাকে; বাস্তবে রূপ নিক।
যে স্বপ্নের আলো আমরা খুঁজি, তা যেন প্রতিটি ঘরে পৌঁছায়।
আর নির্বাচনের এই মুহূর্ত হয়ে উঠুক জাতির ভাগ্য বদলের প্রকৃত সোপান।
হেমন্তের পাতাঝরা পথ ধরে সামনে এগোতেই হবে-কারণ ঝরা পাতার ওপরে দিয়েই নবজীবনের বীজ জন্মায়। যেমন আমরা প্রত্যাশা করি, এই প্রাকৃতিক রূপান্তরের মতো-দেশও বদলাবে একদিন। ঝরে পড়বে ঘুণে ধরা কাঠামো, নতুন করে উঠবে আশার বীজ। আর একদিন আমাদের ভোট, আমাদের সিদ্ধান্ত-এই দেশকে সত্যিই বদলে দেবে।
আমাদের এই সংখ্যার প্রতিটি গল্প, কবিতা, স্মৃতিকথা হেমন্তকে কেন্দ্র করে লেখা। পাতাঝরার শব্দে যেমন থাকে বিষাদের সুর, তেমনি থাকে পুনর্জন্মের সম্ভাবনা। এ সংখ্যার লেখাগুলোতেও আছে স্মৃতির মায়া, আছে নরম হাহাকার, আছে অচেনা রোদে হৃদয়ের উষ্ণতা।
যারা তাঁদের অনুভব, স্মৃতি, আবেগ আর ভাবনার শীতল কুয়াশা আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন-তাদের প্রতি রইল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। পাঠকদেরও আমন্ত্রণ-পাতাঝরা শব্দের ভেতর দিয়ে, কুয়াশার নরম চাদর পেরিয়ে, খুঁজে নিন নিজের ব্যক্তিগত হেমন্তকে।
এই সংখ্যাটি নির্ভুল করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ছিল; তদুপরি কোন ধরনের ভুল-ত্রুটি দৃষ্টিগোচর হলে অবগত করবেন এবং ক্ষমা করবেন।
-সম্পাদক
