হেমন্ত উৎসবে কদু মিয়ার বউয়ের চমক

হেমন্ত উৎসবে কদু মিয়ার বউয়ের চমক
নলডাঙা গ্রামের মানুষ হেমন্ত এলে চুপ করে থাকতে পারে না। ধানের গন্ধে মাতোয়ারা মাঠ, খেজুরের রসে ভরা পাত্র, আর রাজনীতিতে ফুটে ওঠে নতুন আগুন।
কারণ হেমন্ত মানেই শুধু ফসল নয়— ভোটের মৌসুমও!
আর সেই সাথে আসে “হেমন্ত উৎসব ও চেয়ারম্যান নির্বাচন”।
কদু মিয়ার স্বপ্ন
কদু মিয়া এই উৎসবের অবিচ্ছেদ্য চরিত্র।
বছরের বাকিটা ভাত-তরকারির দোকান চালালেও,
হেমন্ত এলেই সে গলায় গামছা বেঁধে ঘোষণা দেয়,
> “ভাইসব! আমি মানুষের সেবা করতে চাই।
আমাদের গ্রাম উন্নয়ন হবে— খেজুরপাতার ওয়াইফাই থেকে শুরু করে ধান কাটার ডিজিটাল ব্যবস্থা পর্যন্ত!”
গ্রামের মানুষ বলে—
> “কদু মিয়া আবার নামছে! গতবারের মতো প্রতিশ্রুতির ফসলই হয়তো কাটবে এবারও!”
লাল মিয়ার আগমন
তবে এবার কদু মিয়ার মাঠে নেমেছে এক নতুন খেলোয়াড় — লাল মিয়া।
পেশায় ব্যবসায়ী, কথায় আগুন, আর স্লোগানে ঢেউ।
সে বলে,
> “আমরাই আসল পরিবর্তনের দল!
আগেররা শুধু ফসল তুলেছে, আমরা মাটি বদলাবো!”
তার কথায় গ্রামের তরুণেরা দুলে ওঠে—
যেন পুরনো গাছের ছায়া ছেড়ে নতুন ফুলের গন্ধে ছুটছে তারা।
কদু মিয়ার বউর মঞ্চে ওঠা
সবাই অবাক, যখন হঠাৎ কদু মিয়ার বউ— হালিমা বেগম— নিজেই প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করে!
বলে,
> “তোমরা যত দল করো করো, আমি ঘর সামলাই—
তাই ভাবলাম, গ্রামের মায়েদের দলে নামলে ক্ষতি কী?”
গ্রামে হাসির রোল পড়ে যায়।
কেউ বলে, “এইটা নূতন দলের আগমন।”
আবার কেউ ফিসফিস করে, “এই হেমন্তে বাতাস বউপক্ষেই বইতেছে!”
হেমন্ত উৎসবের শুরু
উৎসবের দিন মাঠে তুমুল জাঁকজমক।
বেলুন, ধানগাছ, পোস্টার— সব মিলিয়ে মনে হয় নির্বাচন কমিশনের বর্ধিত সংস্করণ!
কদু মিয়া বক্তৃতা দেয়—
> “আমি এই মাটির সন্তান, আমিই উন্নয়নের বীজ বপন করব!”
লাল মিয়া চেঁচিয়ে ওঠে—
> “আপনারা পুরনো বীজে ভরসা রাখবেন না— নতুন ফসল আনুন, নতুন দল আনুন!”
আর হালিমা বেগম শান্ত গলায় বলে,
> “আমার প্রতিশ্রুতি কম, কিন্তু আমি অন্তত টালটিবালটি করবো না।”
ভোটের দিন
সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রে লম্বা লাইন।
বৃদ্ধা নারীরা বলে,
> “আগে ধান দিতাম গোলায়, এখন ভোট দিই বাক্সে!”
এক বৃদ্ধ ভোট দিতে গিয়ে বলে উঠল,
> “এইসব প্রতীক দেখি দেখি চোখ ঝাপসা! কই, রাঁধুনি বালতির প্রতীকটা কোনটা?”
কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত হাসল—
> “চাচা, সব প্রতীকেই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি আছে, আপনি যেটায় বিশ্বাস করেন সেটাতেই চিহ্ন দিন।”
ফলাফল ঘোষণার মুহূর্ত
সন্ধ্যা নামতেই ফলাফল ঘোষিত হলো—
চমকপ্রদভাবে জয়ী কদু মিয়ার বউ!
গ্রাম কেঁপে উঠল।
কদু মিয়া চোখ বড় বড় করে বলল,
> “এইটা নিশ্চয় ষড়যন্ত্র! আমার ভোট আমার ঘরেই গেল না!”
বউ মুচকি হেসে বলল,
> “তুমি যত প্রতিশ্রুতি দিয়েছ, আমি তত হাসি দিয়েছি।
মানুষ উন্নয়ন নয়, একটু সত্যিকারের প্রতিনিধি খোঁজে।”

এ বিভাগের আরও পোস্ট